জিপসী যুবক ।। মশিউর রহমান মিঠু

জিপসী যুবক indexতোমাকে আমি
ঘর বাঁধার আহ্বান জানাবো না
তুমি শুধু আমার কপালে উদ্দামতার টিপ পরিয়ে দাও
আর দিও তোমার রঙিন জীবনের একঁেফাটা,
গতিময় জীবনের নৃত্যকলা,
তার পর চলে যেও।
কেননা, আমাদের এখানে কপটতার পাহাড় আর শ্যামল
মায়ের মত শুয়ে আছে মৃত নদী;
এই খানে কে হায় বেদনা ওড়াতে ভালোবাসে!

স্বপ্নবাজি ।। মশিউর রহমান মিঠু

একদিন যে শুভাকাঙ্খীরা বাউন্ডুলে জীবনে বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দিতে বলেছিলেন,
’এসব কবিতা টবিতা লিখে অন্ন সংস্থান হয় না।’
এমন নির্মন বক্তব্যের মাঝে অধমের প্রতি যে দয়াদ্রতাটুকু ছিলো
আমি সে বিষন্ন দয়াদ্রতা প্রণতি জানাই।

যে স্বজন আমার বাস্তুভূমি হরণ করে নিতে চায়, তাকে বলি: এসো ভাই,
এদেশের উত্তরাধুনিক সষ্যের বিষ আর দুর্যোগে এক সাথে মরি।

যে প্রেমিকা একদিন আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলো আরো বৃহত্তর জীবন
বিভোর স্বপ্ন সুখে, আমি সেই স্বপ্নকে সেলিব্রেট কবি;
আর আমি পড়ে থাকি এক ক্ষুদ্র চরাচরে, বৈশ্বিক স্বপ্নের বিষন্ন তড়িৎ পুষ্ঠি চুষে।

কোন এক অচ্ছ্যুৎ যৌনপল্লির সভ্যতার পাপেজাত একদঙ্গল ছেলে-মেয়ে
আকাশে ছুড়ে দিতে কাগজের রকেট বানায়
ওদের জীবনের আলো ধার করে অনেকে চলে,
আমি ওদের দুর্দান্ত সে স্বপ্নের কাছে ক্ষমা চাই।

একটি সাধারণ গল্প /মশিউর রহমান মিঠু

mmm

টাকা হলো পরজীবির মত
মানুষের হাতবদল হতে হতে বেঁচে ওঠে
প্রাণশক্তি জাগে আর উহাদের পাখা গজায়।

গ্রামের টাকাগুলো উড়ে উড়ে শহরে চলে যায়
শহুরে জীবন গতিময় হয়ে উঠে, হাতগুলো শক্তিশালী হয়।
তবে টাকারাও রোগ-শোকের উদ্ধে নয়।

একবার টাকাদের ফ্লু হলো,
টাকা উড়ে না।
একজন আইনজীবি বলেন,আমি উড়ন্ত টাকা ধরা বেশ উপবোগ করি।
একজন সাংবাদিক বলেন,টাকা ওড়া দেখে দেখে
আমি প্রতিদিন সময় কাটাই।
টাকাদরে শুশ্রুষার আসল মজেজা জানেন রাজাগণ:
সমর রাজা,নগর রাজা, বণিক রাজা;
তারা টাকাগুলোকে বালিশে-তোষকে শুইরে রাখেন আর
মহাপ্রভূদের কৃপা কামনা করেন একটি শক্তিশালী ভ্যাকসিন বানিয়ে দেয়ার জন্য।