অশ্রুজলে লেখা ভাষা সংগ্রামের গান

রাজহাঁসের জন্য শোকগাঁথা

ও আমার বিক্রিত রাজহাঁস, তোমাকে বিদায়,
তুমি চলে যাবে আঁশবটীর তলে, তার পর হয়তো উদয়শংকরের মতো
নাচবে শেষ নৃত্য ভারতী মুদ্রায়।
আমাদের দেখা হবে হাসরের মাঠে, যদি প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে
আমাদের দুঃখগুলোর প্রতিশোধ নেব আমি প্রতি পলে পলে।
ও অরোধ বন্ধু আমার, তুমিও আমার মতো ঘুমকাতুরে
এক পায়ে দাঁড়িয়ে ঘুমোতে হবে না আর
বার বার জাগিবার ঘাঢ়বেদনার ভার বহিতে হবে না তোমাকেে
এদেশের মানুষের বিস্তর কোলাহলে।
মহাপ্রলয় পর্যন্ত তুমি ঘুমোও প্রগাঢ়
আর আমি জেগে থেকে গণতান্ত্রিক উন্মাদের কান্ডকীর্তি দেখি।
 
প্রিয় বন্ধু আমার,প্রিয় খাদ্য তালিকা আমাদের,
তুমি আমাদের সাথেই থাকো, অথচ জানিনা যে, জলস্থল ও অন্তরীক্ষের ভ্রমনচারী তুমি,
তার সত্যমূল্য দেওয়ার মতো সৎসাহস আমাদের নেই,
কেন না, আমরা স্বঘোষিত সর্বশ্রেষ্ঠ সাধু অনবিচারে।
হে বন্ধু দুবন্ত শৈশব আমার, তোমাকে সংগ দিতে গিয়ে
নিরন্তর ঠোকর খেয়েছি কত
কখনো শরীরে জমেছিলো রক্তজবার মতো ক্ষত,
তবুও বলি তুমি আমি প্রকৃতি,
এই ছিলো আমাদের মহাপৃথিবী।
এখন গণতান্ত্রিক বহুপদি দানবের পৃথিবী ছেড়ে,
আবিল আবেগ ছেডে চলে যাওয়া ভালো;
যদি পার শৈশবের স্মৃতিটুকু রেখে দিও
যেনো আবার দেখা হলে চিনতে পারো -উজ্জয়নীপুরে।
 
 হে বন্ধু রাজহাঁস তুমি চলে যাও দৃঢ পদক্ষেপে
 তোমার মত প্রিয় পশুর দেহদিয়ে ভূড়িভোজ করতে পারি না আমি
ধর্মে যা আমাদের বলে, তার চাইতে বড় ধর্মের প্রত্যাশায়
এ দানব বণিকযুগে বসে আছি ধাঁধাঁলো মুদ্রামঞ্চতলে।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল’র শপথ সংগ্রাম ও অশ্রুজলে সিক্ত অমর গান

জাগরণের গান ১৯৭১

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন জাগরণের গান ও সে সময়কার দুর্লভ ছবি নিয়ে এ আয়োজন—

রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতার সম্ভার