Some Bangla Notable spiritual songs

নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষার শিল্পি মোঃ হাসেম এর দু’টি জীবন সংগ্রামের গান

১৯৭৩-১৯৭৪ সালের দিকে মোহাম্মদ হাশেম নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় গান লিখতে শুরু করেন। এর আগে নোয়াখালী অঞ্চলের কোনো গান ছিল না। তার হাত ধরেই এ অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষা, আনন্দ-বেদনা, মেঘনা পারের মানুষের সংগ্রামী জীবনাচার সঙ্গীতে রূপ নেয়। তার অধিকাংশ গান সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। নোয়াখালীর প্রধান সঙ্গীত খ্যাত ‘আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী রয়াল ডিস্ট্রিক ভাই/ হেনী মাইজদী চৌমুহনীর নাম কে হুনে নাই’-গানটি তাকে এনে দিয়েছিল জগতজোড়া খ্যাতি। এ গান আজও মানুষের মুখে মুখে। তার জনপ্রিয় অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে- ‘আল্লায় দিসে বাইল্লার বাসা নোয়াখাইল্লা মাডি’, ‘নোয়াখালীর দক্ষিণে দি উইটসে নোয়া চর’, ‘রিকশাঅলা ১৯৭৩-১৯৭৪ সালের দিকে মোহাম্মদ হাশেম নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় গান লিখতে শুরু করেন। এর আগে নোয়াখালী অঞ্চলের কোনো গান ছিল না। তার হাত ধরেই এ অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষা, আনন্দ-বেদনা, মেঘনা পারের মানুষের সংগ্রামী জীবনাচার সঙ্গীতে রূপ নেয়। তার অধিকাংশ গান সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। নোয়াখালীর প্রধান সঙ্গীত খ্যাত ‘আঙ্গো বাড়ি নোয়াখালী রয়াল ডিস্ট্রিক ভাই/ হেনী মাইজদী চৌমুহনীর নাম কে হুনে নাই’-গানটি তাকে এনে দিয়েছিল জগতজোড়া খ্যাতি। এ গান আজও মানুষের মুখে মুখে। তার জনপ্রিয় অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে- ‘আল্লায় দিসে বাইল্লার বাসা নোয়াখাইল্লা মাডি’, ‘নোয়াখালীর দক্ষিণে দি উইটসে নোয়া চর’, ‘রিকশাঅলা কুসকাই চালা ইস্টিশন যাইয়াম’, আহারে ও কুলসুম কতুন আইলো ডুবাইআলা কইল্লো এ জুলুম’। সঙ্গীতের পাশাপাশি তিনি অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭০ সালে রেডিও পাকিস্তানের ‘অনুষ্ঠান সংগঠক’ হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু। পর্যায়ক্রমে ঢাকা সঙ্গীত কলেজ, কবিরহাট সরকারি কলেজ, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজসহ দেশের বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতার পর তিনি ২০০৫ সালে এ অঞ্চলের অন্যতম নোয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তার সঙ্গীতের প্রথম গুরু বাংলা লোকজ সঙ্গীতের দিকপাল শিল্পী আব্দুল আলীম। তিনি আবদুল আলীম ছাড়াও ওস্তাদ বারীন মজুমদারের কাছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত, ওস্তাদ আবিদ হোসেন খানের কাছে তত্ত্বীয় সঙ্গীত, ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খানের কাছে তবলায় দীক্ষা নেন। অবশেষে তিনি নিজ বাসভূমিতে গিয়ে শুরু করেন শিক্ষকতা ও সঙ্গীত সাধনা।

সর্বোতমঙ্গল রাধে বিনোদিনি রায় গান ও বিতর্ক

সর্বোতমঙ্গল রাধে বিনোদিনি রায় গান ও বিতর্ক: লোক-সংগীত কোন শো-রুমে রাখার জিনিস নয়। যারা শহুরে বা শো-ঘরে বসবাস করেন, তারা আপনাদের জন্য বানানো গানগুলো গেয়ে যান। লোকজ গানের খোঁজে থাকা আমি চলতি বছরের শুরুর দিকে গানটি সংগ্রহ ও আপলোড করেছিলাম। তখন তো কেউ গানটির দিকে তেমন কেউ খেয়াল করেন নি। গানটি চঞ্চল চৌধুরী ও শাওন এর মত সেলিব্রিটিরা গাওয়ার ফলে এখন বেশ জনপ্রিয় ও বিতর্কিতও হয়েছে। সরলপুর নামের ব্র্যান্ডটি দাবী করছে গানটির ৭০ ভাগের কপিরাইট নাকি তাদের। এদিকে মৈমনসিংহ গীতিকার ধরণে গানটি তৈরী হয়েছে বলে দাবী করছেন চঞ্চল চৌধুরী। ঘটনা যাই হোক, লোক গানের কপিরাইট যদি থেকে থাকে তা থাকতে হবে লোক শিল্পিদের কাছে। লোকগানকে বন্ধনমুক্ত করে সবার সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রচেষ্টা থাকা ভালো। সেলিব্রিটি-যারা পেশাদার শিল্পি নন-তাদের চাইতে লোক ঢংয়ে পেশাদার লোক শির্পিদের কন্ঠে এ গান শোনা ভালো।

ঋত্তিক ঘটকের ”যুক্তি তক্ক আর গল্প” ছবির কালজয়ী গানগুলো

ঋত্তিক ঘটক’র ছবিতে গানগুলো বিশেষ করে যুক্তি তক্ক আর গল্প” ছবির গানগুলো একেরাবেই ভিন্নধাচের। কারন ততদিনে তিনি ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান সাহেব থেকে সংগীত শিক্ষা নিয়েছেন। তার হৃদয়ে ছিলো জন্মভূমি পুর্ববাংলা তথা বাংলাদেশ। ফলে দ্রুপদী সংগীতের সাথে গ্রাম বাংলার লোকজ রীতি মিশিয়ে তিনি অনন্য এক শিল্পধারা তৈরী করেছেন তার ছবির গানে। শোনা যাক উল্লেখযোগ্য কিছু গান। এ ছবিতে দূরবীন শাহ’র একটি গান তিনি ব্যবহার করেছেন; সেটিও কালোত্তীর্ণ একটি গান।

সুরস্রষ্টা আলাউদ্দিন আলী’র জীবন ও সংগীত

একজন আলউদ্দিন আলী। চলে গেলেন সাধারণ মানুষটি অসাধারণ সব সুরের মায়াজান ছড়িয়ে

সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারে জন্ম। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই সিনেমায় কাজ শুরু। এরপর শুধুই এগিয়ে যাওয়া। জাতীয় পুরস্কারের রেকর্ড, কালজয়ী সব গান নির্মান। ষোল বছরের সেই বেহালাবাদকের দীর্ঘ পাঁচ দশকের জার্নিটা বেশ অনুপ্রেরণারও!

প্রায় শুকিয়ে যাওয়া শীতের নদী। সে নদীর পাড়ে নড়বড়ে এক বাঁশের মাচা। সেটার ওপরে বসে আছেন এক বাউল। মাথায় ঢেউখেলানো চুল। পরনে ধূসররঙের এক কোট আর গলায় সাদা-কালো ডোরাকাটা মাফলার। হঠাৎ গেয়ে উঠলেন-

আছেন আমার মোকতার, আছেন আমার বারিস্টার

শেষ বিচারের হাইকোর্টেতে তিনি আমায় করবেন পার

আমি পাপী, তিনি জামিনদার’

আমজাদ হোসেনের ‘গোলাপি এখন ট্রেনে’ সিনেমা সেই সময়ে তুমুল হিট হয়। সে সাথে গানগুলোও। বিশেষ করে আনোয়ার হোসেনের লিপসিং এবং আবদুল হাদীর গলায় এই গান তো রীতিমতো ভাংচুর করে সব রেকর্ড। এখনো মানুষ নিয়মিতই শোনে এই গান৷ তকমা পেয়েছে কালজয়ী গানেরও। এই ‘গোলাপি এখন ট্রেনে’ এবং এই সিনেমার বিখ্যাত গানগুলোর সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন বাংলাদেশের এক রত্ন আলাউদ্দিন আলী। শেষ বিচারের হাইকোর্টেতে কাঠগড়ায় চলে গিয়েছেন যিনি গতকালই। ফরিয়াদ জানাচ্ছেন জামিনের।

সময়টা বেশ কিছুদিন ধরে মোটেও ভালো যাচ্ছেনা আমাদের। করোনার প্রকোপ তো আছেই। প্রতিদিনই দেশ থেকে কমে যাচ্ছে কিছু সংখ্যক মানুষ। এরমধ্যে শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষেরাও হুটহাট চলে যাচ্ছেন৷ এই তো সেদিন চলে গেলেন এন্ড্রু কিশোর। গতকাল যখন আলাউদ্দিন আলীর প্রয়াণের খবরটা শুনলাম, কেমন যেন ধাক্কা লাগলো। হঠাৎ মহীরুহ পতনের শব্দ শুনলে থমকে যাওয়াটাই তো নিয়ম।

এমনও তো প্রেম হয়, চোখের জলে কথা কয়, এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই, সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি ও আমার বাংলাদেশ, প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ…সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের সুরকার এই মানুষটি ছিলেন একাধারে সুরকার, বেহালাবাদক, সঙ্গীতজ্ঞ, গীতিকার এবং সঙ্গীত পরিচালক। সত্তরের দশক থেকে যার গান নিয়ে পথচলা শুরু এবং অসাধারণ কালজয়ী সব গানেরও যিনি স্রষ্টা৷ তাঁর মৃত্যু তাই শুধুমাত্র মৃত্যু হিসেবেই থেকে যায় না৷  ইতিহাসেরই এক রঙিন অধ্যায়েরই সমাপ্তি যেন। এ বিষাদ তাই অনেকটাই গভীরে প্রোথিত, যদি ঠিকভাবে উপলব্ধি করা যায় তাঁর কাজের গভীরতা।

আলাউদ্দিন আলীর জন্ম ডামাডোলের বছরে। যে বছরে এ দেশের ছেলেমেয়েরা লড়াই করছে দেশের সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্যে, সেই ১৯৫২ সালের ২৪শে ডিসেম্বর পুরান ঢাকায় তাঁর জন্ম। পৈত্রিক বাড়ি অবশ্য মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী থানার বাঁশবাড়ী গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই পেয়েছিলেন এক সাংস্কৃতিক পরিবার, শিল্পমনস্ক পরিবেশ। আলাউদ্দিনের বাবা কে সবাই ডাকতেন ওস্তাদ জাবেদ আলী। গানবাজনা নিয়েই থাকতেন যিনি সবসময়৷ কাছেদূরের সব গ্রামের মধ্যে তিনি একনামে বিখ্যাত। তাঁর ছেলেও যে গান-বাজনাকে পছন্দ করবে, তা একরকম নিশ্চিতই ছিলো। কিন্তু আলাউদ্দিনের সঙ্গীতে প্রথম হাতেখড়ি তাঁর বাবার কাছ থেকে না, বরং তাঁর ছোট চাচা সাদেক আলীর কাছ থেকে।

আলাউদ্দিন আলীর জন্মের দেড় বছরের মাথাতেই পুরান ঢাকা থেকে মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে পরিবারশুদ্ধ সবাই চলে আসেন। এখানেই বেড়ে ওঠেন আলাউদ্দিন আলী। কেটে যায় বেশ কিছু বছর। ১৬ বছর বয়সে প্রথম সেলুলয়েডের জগতে আসেন তিনি। তবে প্রথমেই সুরকার বা সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে না। হাতে বেহালা নিয়ে যন্ত্রশিল্পী হিসেবে আসেন তিনি। এ্যাসিস্ট করেন বিখ্যাত আলতাফ মাহমুদকে। আলতাফ মাহমুদকে এ্যাসিস্ট করার পরে তিনি আনোয়ার পারভেজ সহ আরো বেশ কিছু সুরকারকে এ্যাসিস্ট করেছিলেন। এভাবেই ধীরেধীরে হাত পাকাচ্ছিলেন তিনি।

‘ও আমার বাংলা মা’ টাইটেলের দেশাত্মবোধক গান মুক্তি পায় যুদ্ধের পরের বছর, ১৯৭২ সালে। এই গান দিয়েই তিনি আত্মপ্রকাশ করেন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে। এরপরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ক্রমশই দিয়ে গিয়েছেন অসাধারণ সব কাজ। ‘গোলাপি এখন ট্রেনে’ সিনেমায় অনবদ্য ভূমিকার কারণে পেয়ে গেলেন শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালকের জাতীয় পুরস্কার। এছাড়াও সুন্দরী, কসাই, যোগাযোগ… এই সিনেমাগুলোর জন্যেও তিনি পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবেও তিনি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। বলে রাখা ভালো, জাতীয় পুরস্কারের ক্ষেত্রে তিনি এমন এক রেকর্ড করেছিলেন, যা ভাঙ্গতে পারেনি কেউ। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কারের যে রেকর্ড তিনি গড়েছিলেন, তা আজও রয়ে গিয়েছে অক্ষত। সবমিলিয়ে তাঁর জাতীয় পুরস্কারের সংখ্যাও ৮টি!

তিনি জীবদ্দশায় প্রায় তিনশোটিরও বেশি সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। পাঁচ হাজারেরও বেশি গানে সুর দিয়েছেন। কালজয়ী সব গানের লিস্ট করতে বসলে আলাউদ্দিন আলীর নাম সেখানে অবধারিত ভাবেই আসবে। তাঁর গান এত জনপ্রিয় হলো কেন, এমন প্রশ্ন একটু ভাবাবেই সবাইকে। উত্তরটাও সোজা, তিনি গানের ক্ষেত্রে একটা নতুন স্টাইল নিয়ে এসেছিলেন- লোকগান আর ধ্রুপদি স্টাইলকে ব্লেন্ড করে মারাত্মক সুন্দর এক ফিউশন। যে ফিউশন মানুষ পছন্দও করেছে পুরোপুরি। আধুনিক সুর ও সোঁদা মাটির কথা মিলিয়ে যে অদ্ভুত মাদকতা তৈরী হতো, সেটাই আটকে রেখেছে দর্শককে যুগের পর যুগ ধরে। পাঁচ দশক ধরে যে ফিউশনে হিপনোটাইজ করে তিনি ধরে রেখেছিলেন শ্রোতাদের। গড়েছিলেন একতারা মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশনও। যেখানে সঙ্গীত সংক্রান্ত কাজকর্ম করা হয় নিয়মিতই।

আলাউদ্দিন আলীর সুর করা অনেক বিখ্যাত গানের মধ্যে একটি ছিলো-

যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়
যে ছিল হৃদয়ের আঙিনায়
সে হারাল কোথায় কোন দূর অজানায়…’

মানুষটিও অজানায় হারিয়ে গেলেন গানের কথামতই। টিকেট কাটলেন সেই ট্রেনের, যে ট্রেন শুধু চলেই যায়, ফিরে আসেনা। পেছনে রেখে গেলেন অসাধারণ এক জগত। যে জগতে তিনি ঢুকেছিলেন হাতে একটা ছোটোখাটো বেহালা নিয়ে। যখন তাঁর যাত্রা শেষ, দেখলেন- বেলা অনেকটা পড়ে এসেছে। অসাধারণ এক ইতিহাসের পৃষ্ঠা লিখে ফেলেছেন নিজের অজান্তেই। আবার টুপ করে হারিয়ে গেলেন সেই বেহালাবাদক, যেন কবির সুমনের গানের মতন করেই-

ছেলেবেলার সেই বেহালা বাজানো লোকটা
চলে গেছে বেহালা নিয়ে
চলে গেছে গান শুনিয়ে।

তাঁর প্রয়াণে রইলো বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

2 Bangla ancient and creative folk songs

দু’টি কুড়ি শব্দের ফরমায়েশি গল্প

সরল পানি

গ্রাম বাংলার বিচিত্র কিছু ভিজিও ও গান

রুদ্র কবির জীবনী ও উৎসর্গীকৃত গান-শুভ জন্মদিন!