Swan wake up in the rainy morning and go to the field (রাজহাঁসের জীবনচক্র)

Swan wake up in the rainy morning and go to the field (রাজহাঁসের জীবনচক্র) আমার প্রথম ডুকোমেন্টারী ভালো লাগলে আপনাদের মতামত জানান।

 

লালনের অসাধারণ একটি মরমি গান, লালনের গানের বানীর সাথে শিল্পির গায়কী ও দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের অপূর্ব সম্মিলন!

লালনের অসাধারণ একটি মরমি গান,না শুনলে মিস! লালনের গানের বানীর সাথে শিল্পির গায়কী ও দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের অপূর্ব সম্মিলন!

২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট পেরিয়ে এসেছিল যে স্বাধীনতা দিবস!।। মাহমুদা সোনিয়া

গণহত্যা ও জনযুদ্ধের সূত্রপাতঃ
২৫ শে মার্চ ১৯৭১! এক নরকসম সুদীর্ঘ-দুঃসহ রাত। এ রাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী শুরু করে অপারেশন সার্চলাইট নামের নৃশংস গণহত্যাযজ্ঞ। এশিয়া টাইমসের, ভাষ্য অনুযায়ী ,

সামরিক বাহিনীর বড় বড় অফিসারদের নিয়ে বৈঠকে ইয়াহিয়া খান ঘোষণা করে “তিরিশ লক্ষ বাঙ্গালিকে হত্যা কর, তখন দেখবে তারা আমাদের হাত চেটে খাবে।” সে পরিকল্পনা মতোই ২৫শে মার্চের রাতে পাকিস্তানী আর্মি অপারেশন সার্চলাইট আরম্ভ করে যার উদ্দেশ্য ছিল বাঙ্গালি প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয়া। এরই অংশ হিসাবে সামরিক বাহিনীর বাঙ্গালি সদস্যদের নিরস্ত্র করে হত্যা করা হয়, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী সমাজ নিধন করা হয় এবং সারা বাংলাদেশে নির্বিচারে সাধারণ মানুষ হত্যা করা হয়।

তৎকালীন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকা থেকে অনুমান করা যায়, এই অপারেশনে প্রায় ১ লক্ষ্য হত্যা করা হয়।
“According to New York Times (3/28/71) 10,000 people were killed; New York Times (3/29/71) 5,000-7,000 people were killed in Dhaka; The Sydney Morning Herald (3/29/71) 10,000 – 100,000 were killed; New York Times (4/1/71) 35,000 were killed in Dhaka during Operation Searchlight.”

যদিও হত্যাকাণ্ডের খবর যাতে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে না পৌঁছায় সে লক্ষ্যে ২৫ মার্চের আগেই বিদেশী সাংবাদিককে ঢাকা পরিত্যাগে বাধ্য করা হয়। তারপরও সাংবাদিক সাইমন ড্রিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান ক’রে ওয়াশিংটন পোস্টের মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে এই গণহত্যার খবর জানিয়েছিলেন। যদিও এই হত্যাযজ্ঞের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা, বাঙালি হত্যা পুরো দেশজুড়ে চালানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের আবাসিক হলগুলো ছিল তাদের বিশেষ লক্ষ। একমাত্র হিন্দু আবাসিক হল – জগন্নাথ হল পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এতে ৬০০ থেকে ৭০০ আবাসিক ছাত্র নিহত হয়। যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনের ঠান্ডা মাথার হত্যাকান্ডের কথা অস্বীকার করেছে তবে হামিদুর রহমান কমিশনের মতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করেছিলো। জগন্নাথ হল এবং অন্যান্য ছাত্র হলগুলোতে পাকিস্তানীদের হত্যাযজ্ঞের চিত্র ভিডিওটেপে ধারণ করেন তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান ইউনিভার্সিটি অব ইন্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনলজি (বর্তমান বুয়েট) এর প্রফেসর নূরুল উলা। পুরো বাংলাদেশেই হিন্দু এলাকাগুলো বিশেষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মধ্যরাতের আগেই, ঢাকা পুরোপুরি জ্বলছিল, বিশেষভাবে পূর্ব দিকের হিন্দু প্রধান এলাকাগুলো। ২রা আগস্ট, ১৯৭১ টাইম সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, “হিন্দু,যারা মোট রিফিউজিদের তিন-চতুর্থাংশ, পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর ক্রোধ ও আক্রোশ বহন করছিল”।

অপারেশন সার্চলাইট (Operation Searchlight)

পৃথিবীর ইতিহাসে কুখ্যাত এক জেনোসাইডের নাম ‘অপারেশন সার্চলাইট! অত্যন্ত সুনিপনভাবে- ঠাণ্ডা মাথায় পাক সামরিক নেতারা এর পরিকল্পনা করেছিল। ২২ ফেব্রুয়ারি সামরিক নেতাদের সাথে এক বৈঠকে মেজর জেনারেল খাদিম হসাইন রাজা এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী মূল পরিকল্পনা তুলে ধরে। বাঙালি নিধনের নীলনকশার পরিকল্পনা শেষ করেই, শেখ মুজিবের সাথে, ভুট্টো আর ইয়াইহা একটি লোকদেখানো বৈঠকও করে।

”The plan was drawn up in March 1971 by Maj.Gen. Khadim Hussain Raza and Maj.Gen. Rao Farman Ali, as a result of a meeting between Pakistani army staff on the 22nd of February. Senior Pakistani officers in East Pakistan who were unwilling to support any military attack on civilians, Lt.Gen. Shahabzada Yakub Khan, GOC East Pakistan, and the governor Vice Adm. Ahsan, were relieved of their duties. As a replacement of these two officials, Lt.Gen. Tikka Khan was made both the Governor and GOC of East Pakistan.

On March 17, Gen. Khadim Hussain Raza was given the go ahead to plan for the crackdown via telephone by Gen. Hamid, COS Pakistan Army. On the morning of March 18, Gen. Raza and Maj.Gen. Rao Farman Ali put the details to paper at the GOC’s office at Dhaka cantonment. The plan was written on a light blue office pad with a lead pencil by Gen. Farman containing sixteen paragraphs spread over five pages.”

Operation Searchlight : The Background of 25th March Genocide

১৯৭১সালে ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত পরিকল্পিত গণহত্যা, যার মধ্যমে তারা ১৯৭১ এর মার্চ ও এর পূর্ববর্তী সময়ে সংঘটিত বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দমন করতে চেয়েছিল।এই গণহত্যা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানী শাষকদের আদেশে পরিচালিত,যা ১৯৭০ এর নভেম্বরে সংঘটিত অপারেশন ব্লিটজ্‌ এর পরবর্তি অনুষঙ্গ।


দ্যা মাডারারস!!
অপারেশনটির আসল উদ্দেশ্য ছিল ২৬ মার্চএর মধ্যে সব বড় বড় শহর দখল করে নেয়া এবং রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধীদের এক মাসের ভেতর নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। বাঙালিরা তখন পাল্টা প্রতিরোধ সৃষ্টি করে,যা পাকিস্তানী পরিকল্পনাকারীদের ধারণার বাইরে ছিল। মে এর মাঝামাঝি সময়ে সকল বড় বড় শহরের পতন ঘটার মধ্যে দিয়ে অপারেশন সার্চলাইটের প্রধান অংশ শেষ হয়। এই সামরিক আক্রমণ ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে তরান্বিত করে। এই গণহত্যা বাঙালিদের ক্রুদ্ধ করে তোলে যে কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয় এবং বহু মানুষকে শরণার্থী রূপে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়।

এই ভয়াবহ গণহত্যা ১৯৭১ এর ইন্দো-পাকিস্তান যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করার পিছনের একটি বড় কারণ,যার ফলে বাঙালি মুক্তিবাহিনী দখলদারী পাকিস্তানী বাহিনীকে বিতারিত করার যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং এর ফলাফল স্বরূপ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ কমান্ড “মিত্র বাহিনী” এর কাছে বিনাশর্তে আত্মসমর্পণ করে।

পরিকল্পনা পদ্ধতি

২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ এ পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর এক বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবনার ভিত্তিতে মার্চের শুরুতে ১৪তম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হুসাইন রাজা এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি অপারেশনের মূল পরিকল্পনা তৈরি করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েতা হতে ১৬তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন এবং খরিয়ান থেকে ১৯তম ডিভিশনকে ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার আদেশ দেয়া হয়।

পাকিস্তানের উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা পূর্ব পাকিস্তানের জিওসি লে জেনারেল সাহেবজাদা ইয়াকুব খান এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ভাইস অ্যাডমিরাল এস এম আহসান পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণের উপর সামরিক হামলার বিরোধী ছিলেন বলে অপারেশনের পূর্বেই তাদেরকে দায়িত্ব হতে অব্যাহতি দেয়া হয়। লে জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও জিওসি করে পাঠানো হয়। মার্চের ১৭ তারিখ পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সিওএস জেনারেল হামিদ টেলিফোন করে জেনারেল রাজাকে অপারেশনের পরিকল্পনা করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ১৮ মার্চ সকালে ঢাকা সেনানিবাসের জিওসি কার্যালয়ে বসে জেনারেল রাজা এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি অপারেশনের পরিকল্পনা তৈরি করেন। পরিকল্পনাটি জেনারেল ফরমান নিজ হাতে হালকা নীল রঙের একটি অফিস প্যাডের ৫ পাতা জুড়ে লিড পেন্সিল দিয়ে লিখে নেন।


দ্যা মাডার!

জেনারেল ফরমান অপারেশনের সিদ্ধান্ত, এবং সাফ্যলের শর্ত ইত্যাদির সীমা তৈরি করেন এবং জেনারেল খাদিম সেনাদলের স্থান বিতরন, বিভিন্ন ব্রিগেড ও ইউনিটের উপর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বন্টন ইত্যাদি কাজ তদারকি করেন। এটা ধারণা করা হয় যে বাঙালি সেনারা অপারেশনের শুরুর সময় বিদ্রোহ করবে, তাই পরিকল্পনাকারীরা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে আলাপকালে বাঙালি সৈন্যদের অপারেশনের পূর্বেই নিরস্ত্র করার এবং বাঙালি রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতারের প্রস্তাব দেন। ‘অপারেশনের সব কিছুই নির্ধারিত হল।’ – হাতে লিখিত পরিকল্পনাটি ২০ মার্চে আবার জেনারেল হামিদ এবং লে জেনারেল টিক্কা পর্যালোচনা করেন। জেনারেল হামিদ তাৎক্ষনিকভাবে বাঙালি সেনা ইউনিটগুলোকে নিরস্ত্র করার সিদ্ধান্ত নিলেও শুধুমাত্র ই পি আর, আর্মড পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীদের নিরস্ত্র করার অনুমতি দেন। ইয়াহিয়া খান তার সাথে এক বৈঠকের সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনাকে প্রত্যখ্যান করেন। পুণঃনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয় এবং বিভিন্ন এলাকার কমান্ডারদের কাছে বিতরন করে দেয়া হয়।

অপারেশন শুরু হয় ঢাকায় ২৫ মার্চ রাতের শেষ প্রহরে এবং অন্যান্য গ্যারিসনকে ফোন কলের মাধ্যমে তাদের জিরো আওয়ারে (অপারেশন শুরুর পূর্বনির্ধারিত সময়) তাদের কার্যক্রম শুরু করার জন্য সতর্ক করে দেয়া হয়। ঢাকার সৈন্যদের কমান্ডে ছিলেন রাও ফরমান আলি এবং অন্যান্য সব স্থানের সৈন্যদের কমান্ডে ছিলেন জেনারেল খাদেম। জেনারেল টিক্কা এবং তার কর্মকর্তারা ৩১তম কমান্ড সেন্টারের সব কিছু তদারক করা এবং ১৪তম ডিভিশনের কর্মকর্তাদের সহযোগীতা করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত ছিলেন।

Siddiq Salik এর বিখ্যাত বই “Witness to Surrender” থেকে OPERATION SEARCHLIGHT এর নীলনকশা সম্পর্কে যা আমরা জানতে পারি তা নিন্মরুপ।

গৃহিত সিদ্ধান্তসমূহ

পাকিস্তানী পরিকল্পনাকারিদের গৃহিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অপারেশনের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন অংশ এবং স্বশস্ত্র বাহিনীর যারা সামরিক শাষনকালে আওয়ামী লীগকে সমর্থন জুগিয়েছে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। অপারেশনের সর্বোচ্চ সার্থকতার জন্য ধুর্ততা, চমকে দেয়া, প্রবঞ্চনা, এবং দ্রুতগতি ইত্যাদি বিষয়ের উপর জোড় দেয়া হয়। নির্বাধ এবং সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা প্রদান করা হয়। সাধারণ জনবসতি এবং হিন্দু এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান এবং আক্রমণের কর্তৃত্বও প্রদান করা হয়।

সাফল্যের নিয়ামকগুলো

১) সারা পূর্বপাকিস্তানে একযোগে অপারেশন শুরু করতে হবে।
২) সর্বোচ্চ সংখ্যক রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতা, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষকদের গ্রেফতার করতে হবে।
৩) ঢাকায় অপারেশন ১০০% সফল হওয়া বাধ্যতামূলক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দখল এবং তল্লাশী করতে হবে।
৪) সেনানিবাসকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনে উন্মুক্ত ও সর্বোচ্চ ক্ষমতায় অস্ত্র ব্যবহারের কর্তৃত্ব প্রদান করা হয়।
৫) টেলিফোন, টেলিভিশন, রেডিও ও টেলিগ্রাফ সহ সকল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে।
৬) সকল পূর্বপাকিস্তানী (বাঙালি) সৈন্যদলকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেড়ে নিয়ে নিস্ক্রিয় করে দিতে হবে।
৭) আওয়ামী লীগের মনে ভূল ধারণা সৃষ্টি করে তাদের ব্যস্ত রাখার জন্য ইয়াহিয়া খান আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অভিনয় করবেন। এমনকি ভুট্টো যদি আওয়ামী লীগের প্রস্থাবে রাজি হয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন, তবুও ইয়াহিয়া আলোচনা চালিয়ে যাবেন।

পরিকল্পনায় পূর্ব নির্ধারিত আক্রমণাত্মক অপারেশন পরিচালনার জন্য চিহ্নিত স্থানগুলো ছিল- ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, রাজশাহী, রংপুর, সৈয়দপুর এবং সিলেট। এসব স্থানে পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্যদের সমাবেশ বেশি ছিল। পূর্বপাকিস্তানের অন্যান্য স্থানে অবস্থিত সৈন্যদল এবং প্যরা মিলিটারি বাহিনীরা তাদের নিজ নিজ এলাকা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রয়ে যাবে এবং প্রয়োজন হলে অন্যান্য স্থানে প্রাথমিক অপারেশনের সময় শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে যোগ দেবে। ঢাকা সম্পুর্ন নিরাপদ হলে পাকিস্তানের ৯ম এবং ১৬তম ডিভিশনের সৈন্যরা শক্তিবৃদ্ধির জন্য বিমান যোগে ঢাকা চলে আসবে। যেসব শহরে বিমানঘাঁটি আছে(চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর, রংপুর, কুমিল্লা) সেসব শহরে সরাসরি ঢাকা থেকে সি-১৩০ (C-130) বিমান অথবা হেলিকপ্টার ট্রুপস এর মাধ্যমে শক্তি বৃদ্ধি করা হবে।

”The planned and designated centers of offensive operations under that plan were Dhaka, Khulna, Chittagong, Comilla, Jessore, Rajshahi, Rangpur, Saidpur and Sylhet areas, where West Pakistani army units were concentrated.
Although the plan did not specify the time needed to subdue East Pakistan, it was assumed that after the arrest of the political leadership and disarming of the Bengali military and paramilitary units, civilians could be terrorized into submitting to martial law within a week. Lt. Gen. Tikka Khan estimated that no resistance would remain after April 10.”

সূত্রঃ Operation Searchlight (The Dark Night of Bangladesh) – March 25

যদিও পরিকল্পনায় পূর্ব পাকিস্তানকে দমন করার জন্য কোন নির্দিষ্ট সময় বেধে দেয়া হয় নি, এটা ধারণা করা হয় যে রাজণৈতিক নেতাদের গ্রেফতার এবং বাঙালি সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীদের নিরস্ত্র করার পর সাধারণ জনগণদের ভয় দেখিয়ে এক সাপ্তাহের মধ্যে সামরিক শাষনের আওতাভূক্ত করা হবে। লে জেনারেল টিক্কা বলেন যে ১০ এপ্রিলের পর আর কোন বাধা বিপত্তি থাকবে না।

জেনোসাইড বিশেষজ্ঞ ও বিখ্যাত লেখক-গবেষক R. J. Rummel তাঁর বইতেও উল্লেখ করেন, বাঙালি নিধনের পাক বাহিনীর এই অপারেশন সার্চলাইট ছিল- পূর্বপরিকল্পিত নৃশংস গণহত্যা।
In East Pakistan (now Bangladesh) [General Agha Mohammed Yahya Khan and his top generals] also planned to murder its Bengali intellectual, cultural, and political elite. They also planned to indiscriminately murder hundreds of thousands of its Hindus and drive the rest into India. They also planned to destroy its economic base to insure that it would be subordinate to West Pakistan for at least a generation to come. This despicable and cutthroat plan was outright genocide.

পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানী সেনাদের বিন্যাস

১৪তম পদাতিক ডিভিশনই পাকিস্তানী সেনাদের একমাত্র ডিভিশন যাদের পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৭১ এর মার্চে ঘাঁটি ছিল। যেখানে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ি তিনটে ব্রিগেড থাকার কথা, সেখানে এই ডিভিশনে চারটি পদাতিক ব্রিগেড ছিল। ৫৭তম পদাতিক বাহিনীকে(পশ্চিম পাকিস্তানী ব্রিগেডিয়ার জাহানবাজ আরবাব এর অধীনে) ঢাকায়, ৫৩তম পদাতিক বাহিনীকে(পশ্চিম পাকিস্তানী ব্রিগেডিয়ার ইকবাল শফির অধীনে) কুমিল্লায়, ২৩তম ব্রিগেডকে(পশ্চিম পাকিস্তানী ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহ খান মালিকের অধীনে) রংপুরে এবং ১০৭তম ব্রিগেডকে(পশ্চিম পাকিস্তানী ব্রিগেডিয়ার এআর দুররানির অধীনে) যশোরে পাঠানো হয়। ব্রিগেডিয়ার এম আর মজুমদার নামের একজন বাঙালি ব্রিগেডিয়ার ছিলেন চট্টগ্রামের কমান্ডে। সাধারণ ভাবে প্রতি ব্রিগেডে ৩ থেকে ৪টি পদাতিক ব্যটেলিয়ন ও একটি ফিল্ড আর্টিলারী রেজিমেন্ট এবং আরো কিছু সাহায্যকারী অংশ থাকে।

এই চারটি ব্রিগেডে মোট ১২টি পদাতিক ব্যটেলিয়ন ছিল(প্রতি রেজিমেন্টে সাধারণত ৯১৫ জন সৈন্য থাকে) যেগুলোর সব গুলোতে ছিল শুধুমাত্র পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্যরা(প্রধানত পাঞ্জাব, বালুচ, পাঠান এবং সিন্ধিদেরই প্রাধান্য দেয়া হয়)। তাদের ২৫ মার্চের আগেই পূর্ব পাকিস্তানে নিয়ে আসা হয়। এই ডিভিশনের আরো ছিল ৫টি ফিল্ড আর্টিলারী রেজিমেন্ট, একটি হালকা এন্টি এয়ারক্রাফট রেজিমেন্ট, একটি কমান্ডো ব্যটেলিয়ন(৩য়), যেগুলোর সবগুলোতেই ছিল পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্যদের প্রাধান্য। রংপুরে অবস্থানরত ২৯তম অশ্বারোহী রেজিমেন্টই ছিল পুর্ব পাকিস্তানে অবস্থানরত একমাত্র স্বশস্ত্র মিশ্র(যেখানে বাঙালি সৈন্য ছিল) রেজিমেন্ট। ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) এর প্রায় ২০% সৈন্য ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের, যেখানে বিভিন্ন ইউনিট এবং সেনানিবাসের সাহায্যকারী সৈন্যরা ছিল মিশ্র জাতীয়্তার। বেশিরভাগ ইউনিটের ইউনিট কমান্ডার এবং উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাগণ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানী।

ঢাকা বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তানী বিমান বাহিনীর ২০টি এফ-৮৬ সাবের জেট এবং ৩টি টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান ছিল। সশস্ত্র বাহিনীর এক স্কোয়াড্রন ৪টি এমআই-৮ এবং ৪টি এলট-III হেলিকপ্টার পূর্ব পাকিস্তানে পাঠানো হয়। সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে অপারেশনের জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুরের কাছাকাছি লালমনিরহাটে, সিলেটের কাছাকাছি সালুটি করে, যশোরে এবং ঠাকুরগাঁয়ের কাছে বিমানঘাঁটিগুলো স্থাপন করা হয়।

পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান নৌবাহিনীর চারটি গানবোট (রাজশাহী, যশোর , কুমিল্লা এবং সিলেটে) একটি পেট্রোল বোট (বালাঘাট) এবং একটি পিএনএস জাহাঙ্গির নামে একটি ডেস্ট্রয়ার ছিল। পাকিস্তানী নৌবাহিনীর পিএনএস বাবুর নামের পতাকাবাহী জাহাজ অপারেশন শুরুর পর পূর্ব পাকিস্তানে আসবে। বেশির ভাগ নৌঘাঁটিই ছিল ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মংলায়।

বিভিন্ন পদক্ষেপ

অপারেশনে নামার আগেই যাতে সংশ্লিষ্ট সব পাকিস্তানী ইউনিট কমান্ডার তাদের দায়িত্ব বুঝে নিতে পারে সেটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল অপারেশনর সার্চলাইটের পরিকল্পনাকারীদের। আর এই কাজটি করা দরকার ছিল সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের একত্রিত করা, অস্ত্রশস্ত্রের যোগান, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে অতিরিক্ত সৈনিক পূর্ব পাকিস্তানে আনা, আঞ্চলিক সেনানায়কদের কার্যবিবরণী প্রদান- এই সব কিছুই করা প্রয়োজন ছিল কোন সন্দেহের উদ্রেক না ঘটিয়ে। ২৪ ও ২৫শে মার্চ পাকিস্তানী জেনারেলদের একটি দল হেলিকপ্টারে করে প্রধান প্রধান গ্যারিসনগুলো পরিদর্শন করেন এবং গ্যারিসন কমান্ডার ও অপারেশনের অন্যান্য সিনিয়র পাকিস্তানী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। এই দলের সাথে ছিলেন জেনারেল হামিদ, জেনারেল Mittha, কোয়ার্টারমাস্টার জেনারেল এবং প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার কর্নেল সাদউল্লাহ। জেনারেল ফরমানকে যশোরে পাঠানো হয়, জেনারেল খাদিম নিজে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের গ্যারিসন কমান্ডারদের ব্রিফ করেন এবং ব্রিগেডিয়ার El-Edrus ও কর্নেল সাদউল্লাহ রংপুর সফরে যান।

সকল ক্ষেত্রে পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় ছিল। না জানলেই নয় এমন কিছু ক্ষেত্রে কেবল গুটিকয়েক লেফটেন্যান্ট কর্নেলকে বিস্তারিত জানানো হয়েছিল। কিছু বাঙালি কর্মকর্তা পাকিস্তানীদের ঘনঘন ব্রিফিং দেখে সন্দেহ করেছিলেন কিছু একটার, কিন্তু ব্রিফিং এ কি ঘটেছে সে সম্পর্কে আক্রমণের পূর্বে তাদের কোন ধারণাই ছিল না।

রসদপত্র ব্যবস্থাপনা

মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে মেজর জেনারেল কামার আলি মির্জা এবং ব্রিগেডিয়ার হ্যারিসন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব আসেন রসদপত্র ব্যবস্থাপনার জন্য, মূল কারণ ছিল তখন অসহযোগিতার কার্যকলাপের কারণে সেনানিবাসগুলোতে খাদ্য সরবরাহ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছিল। অস্ত্রের মূল ভাণ্ডার ছিল ঢাকার অদূরে অবস্থিত রাজেন্দ্রপুরে এবং ৯০০০ টন অস্ত্র ও গোলাবারুদ চট্টগ্রামে এমভি সোয়াত নামের একটি জাহাজে খালাসের অপেক্ষায় ছিল।

সুতরাং জাহাজ থেকে রসদপত্র খুব দ্রুত খালাসের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। ততোদিনে ১৩ এফএফ এবং ২২ বালুচ ঢাকায় পৌঁছে গেছে, পাকিস্তান থেকে পিআইএ ফ্লাইট এ করে বিশেষ যাত্রীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছে। ২৯ পাকিস্তানীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সফলতা নিশ্চিত করতে ২৫ মার্চের আগেই পশ্চিম থেকে পুরো একটি ব্রিগেড পূর্ব পাকিস্তানে পাঠানো। ধীরে ধীরে সৈন্য ও রসদপত্র পাঠানোটা সেই মহাপরিকল্পনারই অংশ ছিল। পূর্বে আসা নতুন সৈনিকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অনেক নতুন নতুন ব্যবস্থা করতে হয়েছিল, সাপ্লাই ইউনিট এর বাঙালি সদস্যরা এটা বুঝতে পেরেছিল আগেই।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অদল বদল

সফলতা নিশ্চিত করার জন্য সামরিক বাহিনী বাঙালি কর্মকর্তাদের স্পর্শকাতর স্থানগুলো থেকে বদলী করে দিয়ে সেখানে পাকিস্তানী বাহিনী মোতায়েন করেছিল। পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানরত দুটি পাকিস্তানী ইউনিট, ২৫তম পাঞ্জাব ও ২০তম বেলুচ, এর প্রত্যাবর্তন পিছিয়ে দেয়া হয়, তার ওপর ২৫ মার্চের আআগেই পশ্চিম থেকে ঢাকায় উড়ে আসে ১৩তম ফ্রন্টিয়ার ফোর্স ও ২২তম বেলুচ রেজিমেন্ট। গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য ২৫ মার্চের আগে পূর্ব পাকিস্তানের অন্য কোন গ্যারিসনে প্রথমেই অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানো হয় নি।

ব্রিগেডিয়ার এম আর মজুমদার নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর গুলি বর্ষণে অস্বীকৃতি জানিয়ে এমভি সোয়াত এর মালামাল খালাসের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করলে তাকে ২৪ মার্চ তার পদ থেকে অব্যাহতি দেন জেনারেল খাদিম। তাকে এই বলে অব্যাহতি দেয়া হয়ে যে তার এখন জয়দেবপুরে গিয়ে ২ ইবিআর এর কাছে রিপোর্ট করতে হবে, তার বদলে ব্রিগেডিয়ার এম এইচ আনসারি চট্টগ্রাম এলাকার দায়িত্ব পান। মার্চের ২২ তারিখ ঢাকায় অবস্থানরত ৫৭তম ব্রিগেড এর ব্রিগেড মেজর মেজর খালেদ মোশাররফ কে বদলি করে কুমিল্লায় ৪র্থ ইবিআর এর ২আইসি হিসেবে পাঠানো হয়। ২৩ মার্চ ২য় ইবিআর এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মাসুদুল হাসানকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় এবং ২৫ মার্চ তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন লে. কর্নেল রকিবউদ্দিন।

অবশ্য পাকিস্তানীরা গণহারে বাঙালি কর্মকর্তাদের বদলি করা থেকে বিরত থেকেছিল, কারণ সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বিনষ্ট হতে পারতো। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সব ছুটির দরখাস্ত বাতিল করে দেয়ার পরও মার্চে পাকিস্তানী কর্তপক্ষ আবার বাঙালি অফিসারদেরকে ছুটি নিতে উদ্বুদ্ধ করে, অন্যদিকে পাকিস্তানী কর্মকর্তাদেরকে কোন ছুটি না নিয়ে সদা সতর্ক থাকতে বলা হয়। পশ্চিম পাকিস্তানী কর্মকর্তা ও সৈন্যদের পরিবারের সদস্যদেরকে পূর্ব পাকিস্তান থেকে সরিয়ে নেয়া হয় এবং তার বদলে সুযোগ সুবিধা মত কিছু পশ্চিম পাকিস্তানী বেসামরিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের পূর্ব পাকিস্তানে এনে রাখা হয়।

২৫ মার্চের পূর্বে বাঙালি ইউনিটগুলোর বিস্তার

অপারেশন শুরুর আগেই সমস্ত নিয়মিত বাঙালি ইউনিটকে একসাথে নিরস্ত্র করার অনুমতি দেননি জেনারেল হামিদ, ফলে পাকিস্তানী নেতৃত্ব অন্যান্য উপায় বাঙালি ইউনিটগুলোর সম্ভাব্য হুমকি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে।

২৫ মার্চে এবং এর আগের সময়গুলোতে বাঙালি ইউনিটগুলোকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে ফেলা হয়, তাদেরকে সেনানিবাসের বাইরে পাঠানো হয় বিভিন্ন কাজ দেখিয়ে, এক অংশ থেকে আরেক অংশকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়, এবং সবগুলো অংশকেই রেডিও এবং তারহীন যোগাযোগের গ্রিড থেকে যত সম্ভব দূরে রাখা হয়। বাঙালি কর্মকর্তাদের হয় ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়া হয় নয়তো নেতৃত্বের কেন্দ্র বা সরাসরি অপারেশনে নিয়োজিত ইউনিটগুলো থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানী কর্মকর্তারা বাঙালি ইউনিট পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে নেয়। বাঙালি সৈনিকদের অনেককে ছুটিতে পাঠানো হয়, অনেককে নিরস্ত্র করা হয়, তবে এমনভাবে কাজগুলো করা যাতে কারও মধ্যে কোন সন্দেহের উদ্রেক না হয়।

সাধারণ সময়ের তুলনায় তখন প্রথম ইবিআর এর শক্তি ছিল অর্ধেক, এই ইবিআর কেই শীতকালীন প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্তবর্তী চৌগাছায় পাঠানো হয়, ২৯ মার্চ পর্যন্ত তারা এখানেই ছিল। দ্বিতীয় ইবিআর এর কোম্পানিগুলোকে ঢাকার আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে দেয়া হয় এবং তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকেজো রাখা হয়। ৩য় ইবিআর এর কোম্পানিগুলোকে ছড়িয়ে দেয়া হয় সৈয়দপুর সেনানিবাসের বাইরে গোড়াঘাট ও পার্বতীপুর এলাকার আশেপাশে। ৪র্থ ইবিআর ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও শমসেরনগর এর মাঝামাঝি এলাকায়। একমাত্র চট্টগ্রামেই নিয়মিত বাঙালি ইউনিটগুলোকে তাদের স্বাভাবিক এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়নি।

পশ্চিম পাকিস্তানের ইপিআর বাহিনীর কোম্পানিগুলোকে শহরগুলোর যেখানেই পারা গেছে সেখানেই মোতায়েন করা হয়েছে। অপরদিকে বাঙালি ইপিআর বাহিনীকে পাঠানো হয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকায়। অধিকাংশ ইপিআর ইউনিট তাদের মূল অ্যাকশন এর অঞ্চল থেকে অনেক দূরে ছিল এবং নিজ অবস্থান থেকে বড় শহরগুলোতে পৌঁছতে তাদের অন্তত ১ দিন লাগতো। ২৪ অথবা ২৫ মার্চ রাতে ইপিআর এর বেতার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।

অপারেশন সার্চলাইটঃ ২৫/২৬ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল

এটি হচ্ছে ২৫ মার্চ হতে ১০ এপ্রিল সময়ে অর্থাৎ অপারেশন যে সময়ের শেষ হয় সে সময়ে পাকিস্তানী সশস্ত্র বাহিনী কোন কোন স্থানে নিয়োজিত ছিল এবং সামরিক আক্রমণের ফলাফলের পূর্ন বিবরন। যেসব স্থানকে অপারেশন সার্চলাইটে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এখানে শুধু সেগুলোর বিবরন আছে, সারা পুর্ব পাকিস্তানে বাঙালিদের প্রতিরোধের কথা নেই। কোন কোন স্থানে ২৫ মার্চেই পাকিস্তানী আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু হবার সাথে সাথেই বাঙালি বাহিনীর সাথে সাথে পাকিস্তানীদের সংঘর্ষ বেধে যায়।

ঢাকা

মেজর জেনারেল ফরমানের নেতৃত্বে ঢাকায় পাকিস্তানী বাহিনীর নিম্ন লিখিত লক্ষ্য ছিলঃ

** রাত ১১টায় কারফিউ জারি করা এবং টেলিফোন/টেলিগ্রাফ/রেডিও স্টেশন এবং সকল প্রকার পত্রিকা প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়া।
** ঢাকা শহরের সড়ক, রেল ও নৌ-পথের দখল নিয়ে সারা শহর বিচ্ছিন্ন করে ফেলা এবং নদীতে টহল জারি করা।
** অপারেশন চলাকালীণ সময়ের মধ্যে শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের আরো ১৫ জন বড় নেতাদের গ্রেফতার করা।
ধানমন্ডি এলাকায় এবং হিন্দু এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্চ (খোঁজ) করা।
** ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইপিআর সদর দফতর, এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন ধ্বংস ও পরাভূত করা এবং ২য় ও ১০ম ইবিআর কে নিরস্ত্র করা।
** গাজিপুর অস্ত্র কারখানা এবং রাজেন্দ্রপুরের অস্ত্রগুদাম দখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ঘটনার পরম্পরা : মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি কর্তৃক প্রণীত ঢাকা আক্রমণের পাকিস্তানী পরিকল্পনা ছিল নিম্নরূপঃ

১। ১৩তম সীমান্তবর্তি সৈন্যদল সেনানিবাসে সংরক্ষিত শক্তি হিসাবে থাকবে এবং নিরাপত্তা প্রদান করবে।
২। ৪৩তম হালকা বিমানবিধ্বংসী বাহিনী তেজগাঁও বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।
৩। ২২তম বালুচ রেজিমেন্ট ইপিআর বাহিনীকে নিরস্ত্র করবে এবং ইপিআর সদর দফতরের ওয়্যারলেস ব্যবস্থা দখলে নেবে।
৪। ৩২তম পাঞ্জাব রেজিমেন্ট রাজারবাগ পুলিশ লাইনকে নিস্ক্রিয় করবে।
৫। ১৮তম পাঞ্জাব রেজিমেন্টের দায়িত্ব ছিল পুরান ঢাকা এবং নবাবপুরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৬। ৩১তম ফিল্ড রেজিমেন্ট মোহাম্মদপুর এবং মিরপুরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল।
৭। 3 SSG এর একটি প্লাটুন মুজিবকে ধরার দায়িত্বে ছিল।
৮। ২২তম বালুচ এবং ৩২তম পাঞ্জাব রেজিমেন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্রোহীদের নিস্ক্রিয় করার দায়িত্বে ছিল।
৯। ২২তম বালুচ রেজিমেন্ট এরপর পিলখানার শক্তি বৃদ্ধি করবে।

যখন ২২তম বালুচ রেজিমেন্ট ২৫ মার্চ সকালের সময়ে পিলখানার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে নিল তখন বাঙালি ইপিআর অফিসারদের পাকিস্তানী অফিসাররা পিলখানায় ব্যস্ত রেখেছিল এবং সৈন্যদের প্রায় সবাইকে কাজ বন্ধ রেখে বিশ্রামে পাঠানো হয়। সন্ধ্যার পরপরই সারা শহরে গুজব ছড়িয়ে পরে যে ইয়াহিয়া খান চলে গেছে এবং তখন আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাসেবকরা রাস্তায় রাস্তায় হালকা প্রতিবন্ধক বসানো শুরু করে, কিন্তু এই সব প্রতিবন্ধক পাকিস্তানী সৈন্যদের চলাচলে কোন তাৎপর্যপূর্ন বাধার সৃষ্টি করতে পারে নি। যেসব স্বেচ্ছাসেবকরা রাস্তায় প্রতিবন্ধক স্থাপন করছিল তারাই পাকিস্তানী সৈন্যদের দ্বারা প্রথম আক্রান্ত হয়। যদিও অপারেশন রাত ১১টায় শুরু হবার কথা, পাকিস্তানী সৈন্যরা ১১.৩০এ ঢাকা সেনানিবাস থেকে বের হয় কারণ পাকিস্তানী ফিল্ড কমান্ডার চাইছিলেন যে বাঙালি সৈন্যরা যাতে প্রতিক্রিয়া করার কোন সুযোগ না পায়। সেনা বাহিনীকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য ৬ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনী আক্রমণ শুরু করার আগেই দ্রুততার সাথে ঢাকা শহরের সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

১০ম বাঙালি রেজিমেন্টকে সেনানিবাসে সহজেই নিরস্ত্র এবং পরে নিশ্চিহ্ন করা হয়। ৩১তম ফিল্ড রেজিমেন্টকে ঢাকার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ন এলাকা এবং শহরের উত্তরাংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়। মেজর বেলাল এবং লে.কর্নেল জেড এ খানের সাথে নিযুক্ত কমান্ডো বাহিনী অপারেশনের শুরুতেই সহজেই শেখ মুজিবুর রহমানকে ধরতে সক্ষম হয়, কিন্তু আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা কৌশলে গ্রেফতার এড়াতে সক্ষম হন এবং ২৯ মার্চের ভেতর শহর ত্যাগ করেন।
২২তম বালুচ রেজিমেন্ট ইপিআর সদর দফতরে অবস্থিত বেশিরভাগ নিরস্ত্র এবং অসংগঠিত ইপিআর সৈন্যদের আক্রমণ করে সারা রাত যুদ্ধ করার পর পরাজিত ও পরাভূত করতে সক্ষম হয।

ময়মনসিংহ-জয়দেবপুর
২য় ইবিআর দলকে ঢাকার দক্ষিণে জয়দেবপুরের পাঠানো হয়, এবং গাজিপুরের অস্ত্র কারখানা (যেখানে ছোট একটি অস্ত্র গুদাম ছিল) এবং রাজেন্দ্রপুর গোলাবারুদ কারখানা (এখানেও একটি গোলাবারুদের গুদাম ছিল) থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়। পাকিস্তানী পরিকল্পনাকারীদের ভয় ছিল যে এই বাঙালি ইউনিট ঢাকা বিমানবন্দর অথবা সেনানিবাস আক্রমণ করতে পারে এবং ২৫/২৬ মার্চের অপারেশন ভন্ডুল করে দিতে পারে। যদিও লে.কর্নেল মাসুদুল হাসান মেজর কে.এম শফিউল্লাহ কে পাকিস্তানী আক্রমণ সম্পর্কে ২৬ মার্চেই টেলিফোনে বলে দিয়েছিলেন, তা সত্বেও উক্ত ইউনিট ২৭ মার্চের পূর্বে আক্রমনে যায়নি। পাকিস্তানী সৈন্যরা ২৬ মার্চেই রাজেন্দ্রপুর কারখানার দখল নিয়ে নেয় এবং গুদাম হতে তাদের গোলাবারুদের সরবরাহ পূর্ন করে।

পাকিস্তানী ইউনিট ইপিআর কোম্পানীকে ২৭ মার্চে আক্রমণ করে কিন্তু পরাস্ত করে ২৮ মার্চে, যে সময়ে ২য় উইঙের অন্যান্য কোম্পানীরা তাদের সাথে অবস্থিত পাকিস্তানী সৈন্যদের নিস্ক্রিয় করতে থাকে (হয় গ্রেফতার করে সীমান্তে পাঠিয়ে দিয়ে, নাহলে হত্যা করে) এবং মার্চের ২৯ তারিখের মধ্যে ময়মনসিংহ শহরে এবং এর উত্তর ও দক্ষিণে ছড়িয়ে যেতে থাকে। কে এম শফিউল্লাহ এর অধীনে ২য় ইবিআর বাহিনী ২৭মার্চ বিদ্রোহ করে, আংশিকভাবে গাজিপুর অস্ত্রাগার লুট করতে সক্ষম হয় এবং ৩০ মার্চ ময়মনসিংহে পুনরায় মিলিত হয়। শফিউল্লাহ ২য় ইবিআর এবং ৭টি ইপিআর কোম্পানীর দায়িত্ব নেন এবং মার্চের ৩০ তারিখের মধ্যে তার সৈন্যদের টাঙ্গাইল, বাহাদুরবাদ, সিরাজগঞ্জ এবং গফরগাঁয়ে ছড়িয়ে দেন। যে সময় ২য় ইবিআর কিশোরগঞ্জ এবং নরসিংদী হয়ে ঢাকা আক্রমণের উদ্দেশ্য যাচ্ছিল, তখন ৩টি ইপিআর কোম্পানীকে গোপনে আক্রমণ চালাতে ঢাকা পাঠানো হয়।

চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র তেল শোধনাগার ছিল। যেখানে ছিল একটি বিশাল তেলের গুদাম এবং সব চেয়ে বড় সমুদ্রবন্দর। এই স্মুদ্রবন্দরে ৯০০০টন অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে এম ভি সোয়াত অবস্থান করছিল। পশ্চিম পাকিস্তানী চট্টগ্রাম গ্যরিসনে বাঙ্গালী সৈন্যরা প্রচুর পরিমাণে ছিল, যা পাকিস্তানী পরিকল্পনাকারীদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ই্পি আর এবং ইপি আর এর বাঙালি অফিসাররা পাকিস্তানী বাহিনীর উপর আগে থেকেই একটি আত্মরক্ষামূলক আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন, কিন্তু সিনিয়র বাঙালি অফিসাররা এই বিশ্বাস থেকে ক্যাপ্টেন রফিককে বিদ্রোহ করা থেকে নিরুৎসাহীত করেন যে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বেসামরিক জনগনের বিরুদ্ধে কোন আক্রমণ চালাবে না, কিন্তু তারা এটা নিশ্চিত করেন যে পাকিস্তানী যে কোন আক্রমণের ঘটনায় তারা অবশ্যই বিদ্রোহ করবেন। এম ভি সোয়াত থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সেনানিবাসে নিয়ে যাবার প্র্চেষ্টা ২০-২৫ মার্চের মধ্যে সাধারণ প্রতিবাদকারীদের বাধার কারণে সাময়িক ভাবে ব্যর্থ হয় এবং সে সকল প্রতিবাদকারীদের অনেকেই সেনাসদস্যদের দ্বারা আক্রান্ত ও গুলিবিদ্ধ হয়।

পাকিস্তানী বাহিনীকে চট্টগ্রামে নিম্নলিখিত লক্ষ্যসমূহ ঠিক করে দেয়া হয়:
১) ই বি আর সি ইউনিট, ৮ম ই বি আর, ই পি আর এবং পুলিশ বাহিনীকে নিরস্ত্র করা।
২) পুলিশের অস্ত্রসস্ত্র, রেডিও স্টেশন এবং টেলিফোন এক্সচেইঞ্জ দখল করে নেয়া।
৩) পাকিস্তানী নৌবাহিনীর সাথে যোগাযোগ করা।
৪) লে কর্নেল এম আর চৌধুরী এবং আওয়ামি লীগ নেতৃবৃন্দদের গ্রেফতার করা।

সিলেট- যশোরঃ
এ অঞ্চলে অপারেশন সার্চলাইটে পাক বাহিনীর লক্ষ্য সমূহ ছিলঃ
১) সিলেট রেডিও ষ্টেশন, কিং ব্রিজ ও এয়ারপোর্ট দখল।
২) ইপিআর এবং পুলিশ আক্রমন ও আওয়ামী নেতাদের এরেস্ট করা।
৩) যশোর থেকে খুলনা ক্যান্টনমেন্টকে পরিচালিত ও দখল করা।

খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লা, কুষ্টিয়া সহ প্রধান প্রধান শহর গুলোতেও সেই একই কায়দায় প্ল্যান করা হয়।

অপারেশন সার্চলাইট পেরিয়ে যে স্বাধীনতার ঘোষণাঃ

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্য রাতে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। কথিত আছে, গ্রেপ্তার হবার একটু আগে ২৫শে মার্চ রাত ১২টার পর (অর্থাৎ, ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে) তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন যা চট্টগ্রামে অবস্থিত তত্কালীন ই.পি.আর এর ট্রান্সমিটারে করে প্রচার করার জন্য পাঠানো হয় ঘোষণাটি নিম্নরুপ:

অনুবাদ:
এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের মানুষকে আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে সর্বশেষ পাকিস্তানি সৈন্যটিকে উত্খাত করা এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আগ পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকুক।

২৬শে মার্চ বেলাল মোহাম্মদ, আবুল কাসেম সহ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের কয়েক’জন কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এম.এ.হান্নান প্রথম শেখ মুজিব এর স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রটি মাইকিং করে প্রচার করেন। পরে ২৭ শে মার্চ আনুমানিক ৭.০০- ৭.৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর হয়ে তিনি আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন সেনাবাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান। ঘোষণাপত্রটির ভাষ্য নিম্নরুপ:

অনুবাদ:
আমি,মেজর জিয়া, বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির প্রাদেশিক কমাণ্ডার-ইন-চিফ, শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। আমি আরো ঘোষণা করছি যে, আমরা শেখ মুজিবর রহমানের অধীনে একটি সার্বভৌম ও আইনসিদ্ধ সরকার গঠন করেছি যা আইন ও সংবিধান অনুযায়ী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সরকার জোট-নিরপেক্ষ নীতি মেনে চলতে বদ্ধপরিকর। এ রাষ্ট্র সকল জাতীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং বিশ্বশান্তির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। আমি সকল দেশের সরকারকে তাদের নিজ নিজ দেশে বাংলাদেশের নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি। শেখ মুজিবর রহমানের সরকার একটি সার্বভৌম ও আইনসম্মত সরকার এৰং বিশ্বের সকল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাবার দাবিদার।

১৯৭১ সালে ২৭ মার্চের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা ঘটে যা নয় মাস স্থায়ী হয়। আমরা পাই, একটি স্বাধীন দেশ! টাইমসে ভাষায়, “The Bloody Birth of Bangladesh.”
স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে, অপারশন সার্চলাইটের নামে ইতিসাহের যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও গণহত্যা চালায় তা নজিরবিহীন। মার্চের শেষের সেই রাতগুলোতে আমরা যেসব নিরস্র, নিরপরাধী মানুষগুলোকে হারিয়েছি তাদের স্মরণ করবে এই জাতি চিরকাল- বিনম্র শ্রদ্ধায়, কৃতজ্ঞতায় আর ভালবাসায়।

তথ্যসমূহঃ
১) উইকি
২) 1971 fact
৩) Genocide- Bangladesh, 1971

বইঃ
১) মেজর(অবঃ) রফিকুল ইসলাম পি এস সি (১৯৯৫). মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস. কাকলী পাবলিশার্স।
২) মেজর জেনাঃ এন এস এ ভূইয়া (২০০০). মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস. আহমেদ পাবলিসিং হাউস।
৩) Siddiq Saliq (১৯৯৭). Witness to surrender.
৪) Maj. Gen Rao Farman Ali Khan, (1992). How Pakistan Got Divided. Jung Publishers.
৫) Major Rafiqul Islam, (2006). A Tale of Millions. Ananna.

বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আমন্ত্রণ পাকিস্তানের!

.

= কোনও ঝামেলা ছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনাল আয়োজনের পর এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ খেলতে চাইছে পাকিস্তান। এ জন্য টাইগারদের দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

সামনের জুলাই-আগষ্টে পাকিস্তান আসতে পারে বাংলাদেশ সফরে। ওই সফরের আগে পাকিস্তান তাদের দেশে চাইছে বাংলাদেশকে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে মে মাসে তারা দুটো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে চায় বলে খবর পাকিস্তানি দৈনিক ‘ডন’-এর। পত্রিকাটির দাবি, ৫ মার্চ পিএসএল ফাইনালের সফল আয়োজনের পর বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পিসিবি। লাহোরের ফাইনালে বিদেশি খেলোয়াড়রা কোনও বিপদ ছাড়াই খেলে যাওয়ায় পিসিবি এখন ম্যাচ আয়োজনে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী। তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলতে চাইছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

যদিও এই আমন্ত্রণের খবরটা এক তরফা ‘আগ্রহ’ই বলে জানা গেছে পরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক কোনও প্রস্তাব পাননি তারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি ‘বাংলা ট্রিবিউন’কে নিশ্চিত করেছেন, ‘দুই দেশের বোর্ডের মধ্যে অনেক আলোচনাই হয়। তবে এটা পাকিস্তানের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও আমন্ত্রণ পাইনি।’

বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরের আলোচনা অনেক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। পিএসএল ফাইনালের পর পিসিবির কর্তা নাজাম শেঠি তো স্পষ্টই বলে দিয়েছিলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে বাংলাদেশ কিংবা শ্রীলঙ্কা সফর করবে পাকিস্তান। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানে ক্রিকেট বিশ্বের বড় কোনও দল না গেলেও ইতিমধ্যে সফর করেছে জিম্বাবুয়ে, কেনিয়া ও আফগানিস্তান। পিসিবি আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফরের কথা বললেও দুটো সিরিজই ভেস্তে যায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায়।

সেই চিলির সামনে আর্জেন্টিনা

.

=তার দিকেই তাকিয়ে আর্জেন্টিনাকাছে গিয়েও ছুঁয়ে দেখা হয়নি ট্রফিটা। দুই বছরের মধ্যে দুইবার একই দলের বিপক্ষে কোপা আমেরিকার ফাইনাল হেরেছে আর্জেন্টিনা। ২০১৫ ও ২০১৬ সালের ফাইনাল মঞ্চে হতাশ করা সেই চিলির বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে নামছে লিওনেল মেসিরা।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে মুখোমুখি হবে দল দুটি। সরাসরি দেখা যাবে সনি সিক্স ও সনি সিক্স এইচডি চ্যানেলে।

লাতিন আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে মোটেও সুবিধাজনক জায়গায় নেই আর্জেন্টিনা। ১২ ম্যাচ শেষে আলবিসেলেস্তেরা ১৯ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে তালিকার পঞ্চম স্থানে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে লাতিন আমেরিকা থেকে শীর্ষ চার দল সরাসরি সুযোগ পাবে মূল পর্বে খেলার। সে হিসাবে আর্জেন্টিনা ওই জায়গার বাইরে। পঞ্চম স্থানে থাকায় বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন অবশ্য টিকে আছে, কারণ প্লে অফ খেলে জায়গা করে নেওয়া সুযোগ আছে তাদের রাশিয়া বিশ্বকাপে।

আর্জেন্টিনা নিশ্চিতভাবেই সেটা ভাবছেন না। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার মিশন সামনে রেখে শুক্রবার সকালে নামবে চিলির বিপক্ষে। এই ম্যাচটি জিতলেই মেসিরা চলে যাবে শীর্ষ চারের মধ্যে। কারণ চতুর্থ স্থানে থাকা চিলি এগিয়ে আছে তাদের চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্টে। ‘লা রোজা’দের বিপক্ষে জয়টা তাই ভীষণ দরকার আর্জেন্টিনার। তবে চিলি কি আর ছেড়ে কথা বলবে! বিশ্বকাপের মূল পর্বে সরাসরি যেতে তাদেরও জয়টা ভীষণ দরকার। প্রতিপক্ষের মাঠ বলে ড্রও তাদের জন্য হবে অনেক বড় পাওয়া। তা ছাড়া বাছাইপর্বে শেষ ম্যাচটাও তাদের জোগাচ্ছে আত্মবিশ্বাস, ঘরের মাঠে যে উরুগুয়েকে হারিয়ে দিয়েছিল ৩-১ গোলে।

এখনও ছয়টা ম্যাচ বাকি আছে আর্জেন্টিনার। তবে ঘরের মাঠে চিলির বিপক্ষে ম্যাচটি হেরে গেলে সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে যাবে তাদের। তাই জয় ছাড়া কিছু ভাবছে না আলবিসেলেস্তেরা। তা ছাড়া প্রতিপক্ষ যখন চিলি, তখন প্রতিশোধের একটা ব্যাপার তো থেকেই যাচ্ছে মেসিদের। এই দলটির বিপক্ষেই টানা দুই বছরে হেরেছে দুটো কোপা আমেরিকার ফাইনাল। আর্জেন্টিনা কোচ এদগার্দো বাউসা অবশ্য প্রতিশোধের বিষয়টি মাথাতেই আনছেন না, তার লক্ষ্য কেবলই জয়। বুয়েনস এইরেসের ম্যাচটির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের আমি বলেছি এখানে প্রতিশোধের কোনও ব্যাপার নেই। এটা বাছাই পর্বের কঠিন একটা ম্যাচ, যেমনটা আমরা খেলতে যাব লা পাজে (বলিভিয়ার বিপক্ষে)।’

কোপা আমেরিকা হারের পর চিলির বিপক্ষে প্রথমবার নামতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। বছর খানেক আগে যুক্তরাষ্ট্রের শতবর্ষী কোপার ফাইনালে হারলেও বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কিন্তু দাপট দেখিয়েছে আলবিসেলেস্তেরাই। ঠিক এক বছর আগে ২৪ মার্চ ‘লা রোজা’দের হারিয়ে এসেছিল তাদের মাঠেই। সান্তিয়াগোতে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলে জয়টা তাই অনুপ্রেরণা জোগাতেই পারে মেসিদের।

অনুপ্রেরণায় জায়গা আছে আরও। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সবশেষ ম্যাচেও আর্জেন্টিনা পেয়েছে দাপুটে জয়। ঘরের মাঠে তারা ৩-০ গোলে হারিয়েছিল কলম্বিয়াকে। ওই ম্যাচে লক্ষ্যভেদ করা মেসির দিকে চিলির ম্যাচেও তাকিয়ে থাকবে আর্জেন্টাইনরা। বার্সেলোনার জার্সিতে জোড়া লক্ষ্যভেদ করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এসেছেন দেশের জার্সিতে খেলতে।

বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার পথটা সহজ করতে বার্সেলোনার নীল-মেরুন জার্সির সেই মেসিকেই চায় আর্জেন্টাইনরা। মেসিরও তো অনেক হিসাব চিলির সঙ্গে। সেটা মেটাতে হবে না!

লন্ডন হামলার দায় স্বীকার করলো আইএস

লন্ডনের পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বুধবারের সন্ত্রাসী হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে জঙ্গিরা। তাদের দাবি, আইএস এর পক্ষ থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকে ইরাক এবং সিরিয়ায় ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর হামলার ‘বদলা’ বলেও দাবি করছে আইএস সমর্থকরা। রাতভর এমন প্রচারণার পর শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেছে আইএস। সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের পরিচালক রিটা কাটর্জ টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, জঙ্গিদের নিজস্ব সংবাদমাধ্যম আমাক নিউজ এজেন্সি’তে এ হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামের আইএস-সমর্থক চ্যানেলগুলোতে ছুরি হাতে থাকা সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে জঙ্গিরা। আইএসের মুখপাত্র আবু মোহাম্মদ এক অডিও বার্তায় ইউরোপীয় সমর্থকদের হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে যদি বন্দুক বা গুলি না থাকে, তাহলে মার্কিনিদের অথবা তাদের মিত্রদের  পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করুন কিংবা ছুরি ব্যবহার করুন। কিংবা তাদের উপর গাড়ি চালিয়ে দিন।’

২০১৬ সালে ফ্রান্সের নিসে ও জার্মানির বার্লিনেও এরকম হামলা হয়েছে। গত ১৮ মাস ধরে ব্রিটেনে হামলার হুমকি দিয়ে আসছে আইএস।  ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্যারিস হামলার পর এক ভিডিওতে আইএস বলেছিলো তাদের পরবর্তী টার্গেট লন্ডন। সিরিয়া ও ইরাকে ফ্রান্সের পর ব্রিটেনেরই সবচেয়ে বেশি সৈন্য দায়িত্বপালন করছে। হ্যারি সারফো নামে এক জার্মান আইএস সেনা বলেন, যুক্তরাজ্যে হামলার জন্য তাদের জঙ্গি নিয়োগ করতে সমস্যা হচ্ছিল। বর্তমানে সাজা ভোগ করা এই জঙ্গি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হলেও ব্রিটেন ও জার্মানিতে তাদের আলাদা করে নিয়োগ দিতে হচ্ছিল।

হামলার পরদিন বৃহস্পতিবার হাউস অব কমন্সে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, হামলাকারী ব্যক্তি একজন ব্রিটিশ নাগরিক। পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ তাকে চিনতো এবং কয়েক বছর আগে সহিংস উগ্রপন্থার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্তও করা হয়েছিল। সে ইসলামি দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল।

এমপিদের উদ্দেশে থেরেসা মে বলেন, ‘গতকাল সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আমাদের গণতন্ত্রকে নীরব করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু একটি বার্তা দিতে আজ আমরা স্বাভাবিকভাবে একত্রিত হয়েছি। যেভাবে আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম একত্রিত হয়েছিলেন এবং যা পরবর্তী প্রজন্ম বজায় রাখবে। বার্তাটি হলো: আমরা ভীত নই এবং সন্ত্রাসবাদ দিয়ে আমাদেরকে সংকল্প থেকে সরিয়ে আনা যাবে না।’

 

যেখানে রিজার্ভ চুরি সেখানেই আগুন, রহস্য কি?

.

=বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আগুন লাগার পর তা নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রচেষ্টা (ছবি: ফোকাস বাংলা)

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার দেড় বছরও হয়নি, এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গেল বৃহস্পতিবার রাতে। এর আগে ১৪ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগেরই ই-মেইল হ্যাকড করেছিল হ্যাকাররা।

এ আগুনে রিজার্ভ পুড়ে না গেলেও রিজার্ভ চুরির সঙ্গে এর কোনও যোগসূত্র আছে কি না এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলাম অবশ্য বলেছেন, ‘রিজার্ভ চুরির সঙ্গে আগুনের ঘটনার কোনও যোগসূত্র নেই। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে বলার সুযোগও নেই।’

এটি নাশকতার বা পরিকল্পিত আগুন কিনা ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খানকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪ তলায় আগুন লাগার ঘটনাটি কোনও নাশকতা কি না তা এখনও পরিষ্কার নয়। আবার শট সার্কিট থেকেও আগুনের সূচনা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি পরিষ্কার করে বলতে পারবে।’

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে এর আগে কখনও এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এমনিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। এখন একই বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। যেভাবেই ঘটুক নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডকে অনেকেই ‘রহস্যজনক’ বলেই মনে করবে।

রিজার্ভ চুরির পর বাংলাদেশ ব্যাংকে এমন সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে যখন বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছর ৪ ফেব্রুয়ারি হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেয়। যদিও আলোচিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটি হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালকের (ঢাকা) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের। অন্যটি বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন সদস্যের। বাংলাদেশ ব্যাংকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়-ক্ষতি নির্ধারণে বৃহস্পতিবার রাতেই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন গভর্নর। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলাম।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে এই কমিটি গভর্নরের কাছে রিপোর্ট পেশ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামালের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- নিরাপত্তা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান চৌধুরী ও কমন সার্ভিস বিভাগ-২ এর মহাব্যবস্থাপক তোফাজ্জেল হোসেন।

.

=বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিস

জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের (জিএম) কক্ষের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে রাত আনুমানিক ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন নিভে যায়।

এর আগে গত ১৪ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকড করেছিল হ্যাকাররা। ১৪ মার্চ রাত ৮টা থেকে শুরু করে ওই রাতের বিভিন্ন সময়ে ওই ই-মেইল আইডি থেকে দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য ই-মেইলেও ভুয়া বার্তা পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের  ই মেইল একাউন্ট হ্যাকড প্রসঙ্গে  বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা সোমবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ই মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনও ব্যাংকের অর্থ কেউ চুরি করতে পারেনি।

ওই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইটি বিভাগকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া ই-মেইল হ্যাকড হওয়ার ঘটনা অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কারিগরি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে গত ১৫ মার্চ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কার্যালয়ে বৈঠককালে বিএনপির ৩৭ নেতাকর্মী আটক

যশোরের শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান জহিরসহ ৩৭ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকালে নাভারন হাসান মার্কেটের দোতলায় বিএনপির অফিসে সাংগঠনিক সভা চলাকালে তাদের আটক করা হয়।

আটকদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম তরফদার, যুগ্ম সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস ও মাসুদুর রহমান মিলন, প্রচার সম্পাদক হিবজুর রহমান, যুব বিষয়ক সম্পাদক মতিয়ার রহমান ছাড়াও উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন।

যশোর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাউল হোসেন জানান, নাশকতার উদ্দেশ্যে উপজেলা বিএনপির নাভারন অফিসে সভা করা হচ্ছে- এমন সংবাদে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আবুল হাসান জহিরসহ উপজেলা পর্যায়ের ৩৭ জন নেতাকর্মীকে অনেকগুলো বোমাসহ আটক করা হয়।

তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দাবি করেন, দলের উপজেলা কমিটি পুনর্গঠন ও ২৬ মার্চ পালন করার ব্যাপারে নেতাকর্মীরা বৈঠক করছিলেন। সেখান থেকে ডিবি পুলিশ ৩৭ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘নাশকতা সৃষ্টির গোপন মিটিং কি কেউ প্রকাশ্যে কোনো মার্কেটে করে?’

পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ বিঘ্নিত করে তিস্তা চুক্তি নয়: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ বিঘ্নিত করে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তিতে সম্মতি দেবেন না বলে বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন কলকাতায় একটি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মমতা বলেন, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। গত চার বছরে দু’বার ঢাকা গিয়েছি। সম্পর্ক ভালো বলেই ৬৬ বছর পর ছিটমহল চুক্তি হল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে এখনও কেউ কিছু জানায়নি। সংবাদপত্রে দেখলাম শেখ হাসিনা দিল্লি আসছেন। ২৫ মে নাকি ঢাকায় তিস্তা চুক্তি সই হবে। কিন্তু আজকের দিন পর্যন্ত দিল্লি বা অন্য কেউ আমাকে কিছুই জানায়নি। কিন্তু আমার একটাই কথা, তিস্তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থই সবার আগে দেখব। পশ্চিমবঙ্গের কৃষক ও সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে এমন কোনো চুক্তিতে আমি সম্মতি দেব না।’ ২০১১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মনমোহন সিং ঢাকা গিয়েছিলেন, সেই সময় মমতারও ঢাকা পৌঁছে তিস্তা চুক্তিতে সই করার কথা ছিল। কিন্তু ৬ সেপ্টেম্বর বিকালে মমতা কলকাতায় আচমকাই ঘোষণা করেন, চুক্তির যে খসড়া হয়েছে তাতে পশ্চিমবঙ্গেরই ক্ষতি হবে। তাই আমি ঢাকা যাচ্ছি না। এরপর গত ৬ বছরে নানা আলোচনা হয়েছে। মমতা নদী বিশেষজ্ঞদের দিয়ে কমিটি গঠন করে রিপোর্ট তৈরি করেন। সেই রিপোর্টের ইঙ্গিত করে মমতা বলেন, আমরা অনুসন্ধান করে দেখেছি প্রস্তাবিত চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষতি হবে। তাই আমরা এই চুক্তির পথে যাচ্ছি না।